করোনায় ১৮ শতাংশ শ্রমিক খরচ চালাতে ধার করেছেন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের কারণে খরচ চালাতে ধার করেছেন ১৮ শতাংশ শ্রমিক। সঞ্চয় ভেঙেছেন ২৫ শতাংশ শ্রমিক।

সম্পদ বিক্রি করেছেন এক শতাংশেরও কম শ্রমিক। আয় করতে হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ভেঙেছেন ১৫ শতাংশ শ্রমিক। বর্ধতি পরিবারের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেছেন নয় শতাংশ শ্রমিক। কম খরচের বাসায় উঠেছেন চার শতাংশ শ্রমিক।

অন্য চাকরি খুঁজেছেন তিন শতাংশ শ্রমিক। বাড়ি ফিরে গেছেন তিন শতাংশ শ্রমিক।

পারিবারিক দায়িত্বের জন্য চাকরিতে যেতে পারেননি তিন শতাংশ। অন্য চাকরি পেয়েছেন দুই শতাংশ শ্রমিক।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজের (এমএফও) যৌথ উদ্যোগে দেশের পোশাক শ্রমিকদের ওপর চলমান জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের ওপর কোভিড-১৯ সংকটের প্রভাব নিয়ে আরও যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হচ্ছে- জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ অন্তত একবার হলেও অভিবাসন করেছেন। এদের মধ্যে ৯১ শতাংশ নারী ও ৮৩ শতাংশ পুরুষ। ৮১ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছেন যে তারা চাকরির জন্য অভিবাসন করেছেন। চাকরির জন্য অভিবাসীদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা একবারই অভিবাসন করেছেন। চাকরির জন্য অভিবাসীদের ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা দু’বার অভিবাসন করেছেন। চাকরির জন্য অভিবাসীদের ১২ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা তিন বা তারও বেশি অভিবাসন করেছেন।  ৫১ শতাংশ শ্রমিক মহামারির আগে তারা পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ নারী ও ৬৬ শতাংশ পুরুষ।

এদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ শ্রমিক নিয়মিত ৩৩ শতাংশ মাঝে মধ্যে নয় শতাংশ কদাচিৎ টাকা পাঠাতেন। ১৮ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা পরিবারে টাকা পাঠান না। ৫৮ শতাংশ জানিয়েছেন তারা তাদের পরিবারে হয় আগের চেয়ে কম টাকা পাঠান বা আগে যতবার পাঠাতেন তার চেয়ে কম বার পাঠান। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন কোভিড-১৯ এর ফলে তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। দুই শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা তাদের পরিবারের কাছে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বা বেশি বার অর্থ পাঠাচ্ছেন। গত চার সপ্তাহে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৭ শতাংশ পরিবার ছাড়া অন্য কোথাও টাকা পাঠিয়েছেন। যাদের টাকা পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ তাদের পরিবারের সদস্য।

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়ন করতে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও মাইক্রো ফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) গত ১৫ সপ্তাহ ধরে এক হাজার ৩৬৭ জন শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে জরিপ চালিয়ে আসছে। এ সিরিজ জরিপে প্রতি সপ্তাহে নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়। সর্বশেষ এ জরিপটিতে এক হাজার ২৬৯ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেছেন। জরিপটির কিছু প্রশ্ন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে বলে জরিপের ফলাফলের ওপর ‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়, তবে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সামান্য পরিবর্তিত হয়। জরিপে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত আছেন।

Comments are closed.

     এ বিভাগের আরো সংবাদ